দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত, ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে এই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমদানি করা বিস্ফোরক দ্রব্যের (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উৎপাদন সাময়িক বন্ধ। আশা করা যায়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছাবে।’
তিনি জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পাথর সংকটের কোনো প্রভাব পড়বে না।
জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় খনির ভূগর্ভে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটের কারণে এর আগে ২০২৫ সালে ও ২০২২ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। বিস্ফোরকের অভাবে প্রথমবার ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস এবং ২০১৮ সালে ৭ দিন খনির পাথর তোলা বন্ধ ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৩ শিফটে পাথর তোলার কাজ করছে প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ৬ বছরের পুনঃ চুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (মধ্যপাড়া পাথর খনি) কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর তুলছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর তোলা বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালু থাকবে।