গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় রয়েছে ছোট-বড় সাড়ে চার শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক লাখ শ্রমিক। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এরই মধ্যে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানা ছুটি ঘোষণার পরপরই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বাড়তে থাকে ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ। প্রচণ্ড গরমে উপেক্ষা করে ট্রাক, পিকআপ, এমনকি ড্রাম ট্রাকে করে ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছে মানুষ।
আজ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড মাওনা চৌরাস্তা, গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি, এমসি বাজার নয়নপুর এবং জৈনা বাজারে শত শত ঘরমুখী মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। বাস না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে জন্য রওনা হচ্ছে ট্রাক, পিকআপ এমনকি ড্রাম ট্রাকে। কোনো কোনো পণ্য পরিবহনে গাদাগাদি করে উঠে যাচ্ছে নারী-পুরুষ।
এমসি বাজার বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির অপেক্ষায় থাকা শ্রমিক নাজমুল ইসলাম জানান, শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন তিনি। ফুলপুর উপজেলায় বাড়িতে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে একটু আগেভাগে রওনা হয়েছেন। কিন্তু রাস্তার সেই আগের গল্প পরিবহনসংকট। শত কষ্ট উপেক্ষা করে বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ করতে পারলে সব কষ্ট শেষ হয়ে যায়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের নয়নপুর এলাকায় পিকআপ উঠছিলেন একের পর এক যাত্রী। অনেকটাই গাদাগাদি করে বসা নারী-পুরুষ। তবুও উঠছেন তাঁরা। কথা হয় পিকআপচালক ফজলুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে ১০ জন লোক মিলে পিকআপ ভাড়া করেছেন। হালুয়াঘাটে যাবেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তাঁদের ছেলেসন্তান তো নিতেই হবে। গাদাগাদি করে বসলেও কোনো সমস্যা নেই তাঁদের। অল্প ভাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক-পিকআপে চেপে নিজ নিজ গন্তব্য যাচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
ময়মনসিংহগামী পিকআপের যাত্রী শামসুল ইসলাম বলেন, ‘বাসের চাইতে কম ভাড়ায় পিকআপে যাতায়াত করা যায়। বাস যেখানে জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে, সেখানে পিকআপে পুরো পরিবার নিয়ে ২০০ টাকায় ময়মনসিংহ যাচ্ছি।’