উন্নয়নের নামে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের গাছ কেটে ‘পকেট ভারী করার উন্নয়ন’ চান না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। আজ শুক্রবার ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের গাছ রক্ষা আন্দোলন ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তাঁরা।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘গাছ কাটার নামে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। আসলে এটা পকেট ভারী করার উন্নয়ন। আমরা এই পকেট ভারী করার উন্নয়ন চাই না। আমরা চাই, ধানমন্ডির এই গাছ কাটা বন্ধ করা হোক।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন–বাপার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘গাছ কেটে নগরের সৌন্দর্যের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু গাছ কেটে কখনো নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয় না। গোটা পৃথিবীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যেখানে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে ঢাকায় উল্টো গাছ কাটা হচ্ছে। আমরা চাই মেয়র গাছ কাটার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন। আমরা শুনেছি তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার মানে তিনি ভুল করেছেন। সুতরাং তিনি তাঁর ভুলটি সংশোধন করে গাছ কাটা বন্ধ করুন সেটাই চাই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র হলো জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের জনগণ চাচ্ছেন এই এলাকার গাছ কাটা না হোক। সুতরাং এই এলাকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হোক।
বক্তারা আরও বলেন, এখানে টাকার খেলা চলছে। গাছ কেটে বিক্রি করে টাকা ইনকামের ধান্ধা, আবার সেই জায়গায় নতুন গাছ লাগানোর নামে নতুন প্রকল্প গ্রহণের নামে আবারও টাকা আয়ের ধান্ধা।
গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি—বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানসহ অন্যরা প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন।