সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের বাড়িতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে না পরায় জাতিসংঘের ৫ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ৫ বিশেষজ্ঞ হলেন-জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আইরিন খান, মেরি ললর, ক্লেমেন্ট এন ভউল, নিলস মেলজার এবং মরিস টিডবল-বিঞ্জ।
শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের স্পেশাল প্রসিডিউরস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ভয়ংকর ও ব্যাপক দায়মুক্তির সংস্কৃতির ফলে দুই সাংবাদিক হত্যার এক দশক পরেও ন্যায়বিচার হয়নি। তা ছাড়া গত এক দশকে বাংলাদেশে অন্তত ১৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার তদন্ত বা বিচার খুব কমই হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২০১২ সালে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো চিঠির ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি তারা।
বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘটা অপরাধের যখন শাস্তি হয় না, তখন তা অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আরও হামলা, হুমকি ও হত্যাকে উৎসাহিত করে। আমরা বাংলাদেশে সেই গভীর উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।
২০১৭ সালে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার ঘটনার বিচার বারবার বিলম্বিত হওয়া নিয়েও বিশেষজ্ঞরা বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।