রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নূরজাহান রোডে বাসার ফটকে দুই নারীকে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।
দুই আসামি হলেন জুয়েল ওরফে সোর্স আরিফ ও আনোয়ার হোসেন।
আজ দুপুরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রানা রায় প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে, দুই আসামির রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবীরা।
শুনানি শেষে আদালত তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।
গত ৩১ মে দিবাগত রাত ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় দুই নারী নিজেদের বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিকশা থেকে নামার পর চাপাতি হাতে দুই ব্যক্তি তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাগেজ, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যান।
ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে বাসার সামনে পৌঁছানোর পর এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
দুই আসামির রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে নিজেদের বাসার ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে লাগেজ, মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন আসামিরা। ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানিকালে বিচারক আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হন। তাঁদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
আদালত মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই ও অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, এভাবে তো চলতে পারে না। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে।
এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ছিনতাই হওয়া লাগেজ এখনো উদ্ধার হয়নি। এরপর বিচারকের প্রশ্নের জবাবে আসামিরা দাবি করেন, লাগেজ তাঁদের সহযোগী আলমের কাছে রয়েছে।
অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামি আরিফ পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।