জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কমিশনার ও প্রথম সচিব মো. তারেক হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ফ্ল্যাট ও জমি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এসব নির্দেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় তারেক হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ ক্রোক এবং বিভিন্ন হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশে আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আল আমিন।
আবেদন অনুযায়ী তারেক হাসানের নামে দক্ষিণখানে থাকা কার পার্কিং, কমন স্পেসসহ ৫২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং চাঁদপুরের মতলবের ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার ১৫ শতক জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুটি ব্যাংক হিসাব, তিনটি এফডিআর, চারটি বিও হিসাব ও চারটি জীবনবিমা হিসাবও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্যাংক হিসাবে ২৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৪ টাকা, এফডিআরে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৪৪২ টাকা, বিও হিসাবে ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৩২ টাকা এবং জীবনবিমা হিসাবে ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৫ টাকা রয়েছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়, তারেক হাসানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। বিদেশে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর বিদেশগমন রোধ করা প্রয়োজন।
আরেক আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে, তারেক হাসানের নামে দুটি দলিলমূলে অর্জিত স্থাবর সম্পদ, দুটি ব্যাংক হিসাব, তিনটি এফডিআর, তিনটি বিও হিসাব, চারটি জীবনবিমা পলিসি ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে মোট ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৭২৮ টাকার সম্পদ রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তাঁর এসব সম্পদ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা না হলে তা বেহাত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।