প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) মো. আফজাল নাছেরকে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এক হত্যার চেষ্টা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিন দিনের রিমান্ড শেষে আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র অনিক কুমার দাস হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে আবারও ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই কে এম শরিফুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ নিয়ে একই মামলায় তাঁকে পরপর তিনবার রিমান্ডে নেওয়া হলো।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে গেলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন অনিক। প্রথমে তাঁকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অনিক কুমার দাস বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
গত ২৯ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ৩০ মার্চ তাঁকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পল্টন থানায় দায়ের করা মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে ৫ এপ্রিল ৩ দিন, ৮ এপ্রিল আরও ৩ দিন, ১২ এপ্রিল ২ দিন এবং ১৪ এপ্রিল ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
গত ১৭ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আবার তাঁকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় আবার ৩ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তাঁকে গত ২৩ এপ্রিল ৪ দিন, ২৭ এপ্রিল ২ দিন, ২৯ এপ্রিল ৩ দিন ও ২ মে ৩ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এরপর অনিক দাস হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গত ৫ মে ৩ দিন ও ৮ মে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এবার আবার ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর তাঁকে ১৪ দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো। গ্রেপ্তারের পর ৪৪ দিনের রিমান্ড হলো আফজাল নাছেরের।