আইন অনুযায়ী দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কতজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার আদালত এই আদেশ দেন।
এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। এতে একই সঙ্গে গবেষণার জন্য কত ভাগ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। পরে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন অনুযায়ী প্রতি বছর এসব প্রতিষ্ঠানের ৬ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার কথা। সেটি করা হচ্ছে না। আইনের ৯-এর ৬ উপধারা অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত একটি সুনির্দিষ্ট অংশ গবেষণার জন্য রাখতে হবে। আর এই হিসাবগুলো পাঠাতে হবে ইউজিসির কাছে। ইউজিসি পরে এই প্রতিবেদন পাঠাবে মন্ত্রণালয়ের কাছে। মন্ত্রণালয় পাঠাবে সংসদীয় কমিটির কাছে। পরে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ১২ ধারা অনুযায়ী সরকারের কর্তব্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল এবং শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করবে। আর ধারা ৪৯-এ বলা হয়েছে এগুলোকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। ওই অপরাধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। তবে বিগত বছরগুলোতে এসব কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন রিট করেন।’