ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে এবি ব্যাংক থেকে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১১ আসামিকে গ্রেপ্তারের আদেশ পালনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, আইজিপি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) আগামী ২৬ জুন এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এক আসামির জামিন শুনানিতে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
গত বছরের ৮ জুন এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলী, ব্যাংকের সাবেক এমডি শামীম আহমেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অপর আসামিরা হলেন—এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার এ বি এম আব্দুস সাত্তার, কাকরাইল শাখার সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কাকরাইল শাখার এসভিপি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি মো. রুহুল আমিন, ইভিপি ওয়াসিকা আফরোজ, সাবেক ইভিপি মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এসইভিপি সালমা আক্তার, এভিপি মো. এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম, এমভিপি শামীম এ মোরশেদ, কাকরাইল শাখার ভিপি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম ও কাকরাইল শাখার ডিএমডি মশিউর রহমান চৌধুরী।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায় না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের নাম করে ছয়টি ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার এবং সাতটি ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখা থেকে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন এরশাদ আলীসহ আসামিরা।
জানা যায়, এক সময় রাজশাহীতে রিকশা চালাতেন এরশাদ আলী। পরে রিকশা ছেড়ে শুরু করেন বালুর ব্যবসা। ধীরে ধীরে পাথর, রড ও সিমেন্টের ব্যবসায় নামেন তিনি। নাম সর্বস্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেন অন্তত ৫০০ কোটি টাকা। যার অনুসন্ধান করছে দুদক। গত ১৭ মে হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইতে হাজির হলে তাঁকে সেখান থেকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।