রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর নাম শিহাব হোসেন (২০)। তাঁকে গতকাল বুধবার রাতে পাবনার বেড়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় একটি মাদ্রাসা থেকে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর পুলিশের তদন্তে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শিহাব হোসেনের নাম উঠে আসে। পরে গতকাল শিশুটির মা রামপুরা থানায় ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিহাবের বিরুদ্ধে আগেও প্রতিষ্ঠানের চার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। পুলিশের পরামর্শে মঙ্গলবার ওই ঘটনাগুলো নিয়েও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রামপুরা থানায় একটি মামলা করেছে। তিনি আরও বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধারের আগেই শিহাব মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সকালে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের জন্য লজ্জাজনক। মাদ্রাসায় পরপর এমন ঘটনা ঘটছে, যা সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে শুনানিতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে আদালত শিহাব হোসেনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।