রাজধানীর পল্লবীতে শিশু হত্যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা এবং পরে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাসিন্দা জাকির হোসেন সোহেল রানার (৩৩) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তাঁর গ্রামবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বাবা, বোনসহ এলাকাবাসী তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের প্রকৃত নাম সোহেল রানা। তিনি সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিন বছর আগে এলাকা ছাড়ার আগপর্যন্ত তিনি সোহেল রানা নামে পরিচিত ছিলেন। পরে ঢাকায় গিয়ে নিজের বাবার নাম ব্যবহার করে ‘জাকির হোসেন’ পরিচয় ধারণ করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে মহেশচন্দ্রপুর বাজারে একটি ছোট সাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ শুরু করতেন তিনি। একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরে জুয়া, চুরি ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় হাটবাজার ও বাড়িতে দিনমজুরির আড়ালে চুরির অভিযোগে তিনি একাধিকবার ধরা পড়েন বলেও জানান এলাকাবাসী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে তাঁর বাবা বিয়ে করান। কিন্তু সংসারজীবনে প্রবেশের পরও তিনি বদলাননি। জুয়া ও ঋণের কারণে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন এবং পরে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চরমে পৌঁছালে ২০২৩ সালে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বাবা। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান।
জাকিরের বোন জলি বেগম বলেন, ‘তিন বছর আগে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। আমরা জানতাম না সে এত ভয়ংকর অপরাধ করতে পারে। আমরা তার কঠোর শাস্তি চাই।’
মহেশচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ‘আমরা তাকে সোহেল নামেই চিনতাম। এলাকায় চুরি ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু সে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাবে, তা কখনো ভাবিনি। তার কারণে এলাকার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
অভিযুক্ত ব্যক্তির বাবা জাকির আলী বলেন, ‘আমি তাকে বহু আগেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। সে যে শিশু হত্যার মতো জঘন্য কাজ করেছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। বাবা হিসেবে আমি তার লাশও দেখতে চাই না।’
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।