প্রয়োজনীয় যাতায়াতব্যবস্থা ও ভোটকেন্দ্রের প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ ভোট দিতে পারেন না। তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের নিচতলায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং সহজে প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর বারিধারার একটি হোটেলে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের (বি-স্ক্যান) আয়োজনে ‘ডিজেবিলিটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন রিপোর্টিং’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির (ইপিডি) সহযোগিতায় ‘প্রোমোটিং ডিজেবিলিটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন অবজারভেশন (পিডিআইইও)’ প্রকল্পের আওতায় এর আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জন্য নিচতলায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেসব ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়, সেখানে সিঁড়ি ব্যবহার ছাড়াই ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
সালমা মাহবুব আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল থাকা জরুরি। এ জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। নারী প্রতিবন্ধী ভোটারদের প্রয়োজন বিবেচনায় নারী স্বেচ্ছাসেবকও রাখতে হবে।
বি-স্ক্যানের প্রোগ্রাম পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও রাষ্ট্রের নাগরিক। ভোটাধিকারসহ সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। এসব অধিকার নিশ্চিত করতে তাঁদের সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
ইফতেখার মাহমুদ আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অধিকারের কথা বলে আসছেন। তবে অধিকার আদায়ে সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। সংগঠন গঠন ও পরিচালনাও তাঁদের জন্য চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক পরিসরে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে হবে। তাঁদের দয়া বা সহানুভূতির বিষয় হিসেবে নয়, অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন মিডিয়া অ্যানালিস্ট ও গবেষক নাজিয়া আফরিন মোনামী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের মহিলা অঙ্গন সম্পাদক রাবেয়া বেবী। সমাপনী বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেলিগেট সিমোনা কামোলিনি। এ সময় ইপিডির প্রকল্প পরিচালক আনাস্তাসিয়া এস উইবাওয়া, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোকসানা হক এবং বি-স্ক্যানের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর মাহফুজুর রহমান রাকীবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বি-স্ক্যান মনে করে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে গণমাধ্যমে দয়া বা সহানুভূতির বদলে মানবাধিকার, সমতা ও নাগরিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা জরুরি। দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবাদিকতা নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণ এবং মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।