গোপালগঞ্জে জামাতার বঁটির কোপে এক বৃদ্ধের মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চরঘাঘা ধলইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদশা গাজী (৮০) ওই এলাকার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। এ ঘটনায় জামাতা মুরাদ হোসেন মোল্লাকে (৪১) এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, জুমার নামাজ শেষে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বাদশা। এ সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে জামাতা মুরাদ বঁটি দিয়ে শ্বশুরের গলায় কোপ দেন। এতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী মুরাদকে আটক করেন।
মুরাদের স্ত্রীর নাম তানিয়া রহমান। তিনি ৫ নম্বর ঘাঘা ধলইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর বরাতে পুলিশ জানায়, ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী নড়াইল জেলার মুরাদের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের ঘরে দুটি ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরব থেকে শ্বশুরবাড়ি চরঘাঘা ধলইতলা আসেন মুরাদ। এর পর থেকে মুরাদকে তাবিজ-কবচ করে রাখে তানিয়ার বাবা বাদশা। এ কারণে মুরাদ নিজের বাড়িতে না থেকে শ্বশুরবাড়ি চরঘাঘা ধলইতলাই থাকতেন। এসবের কারণে একসময় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন মুরাদ। এ কারণেই মুরাদ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) আশরাফ হোসেন জানান, শ্বশুরকে হত্যার ঘটনার পর জামাই মুরাদ হোসেন মোল্লাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটিটিও জব্দ করা হয়েছে। বাদশা গাজীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।