জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম এই তারিখ ধার্য করেন।
অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিল না করায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।
২০২০ সালের ৯ নভেম্বর শ্রেষ্ঠ এএসপি মো. আনিসুল করিম শিপন রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। এরপর তাঁকে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতে চাননি। কিন্তু রোগী পেয়ে হাসপাতালের মালিক ও কর্মচারীরা তাঁকে ভর্তি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একসময় তাঁকে মারধর শুরু করেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁর দুই হাত পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। ঘাড়ে, পিঠে, বুকে ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করা হয়। তিনি পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঘটনার পরদিন আনিসুলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
আদাবর থানার পরিদর্শক মো. ফারুক মোল্লা মামলাটি তদন্ত করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহামুদ জয়, ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান, কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ আমিন ও ডা. ফাতেমা খাতুন, হাসপাতালের সমন্বয়ক রেদোয়ান সাব্বির, হাসপাতালের কর্মচারী মাসুদ খান, জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম কুমার পাল, লিটন আহম্মেদ, সাইফুল ইসলাম ও পলাশ।
বাদী এই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন। নারাজি আবেদনে বাদী বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ওই হাসপাতালের আরেক চিকিৎসক ডা. নুসরাত জড়িত রয়েছেন। তাকে অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদী এবং তাঁর পরিবারের ধারণা, অধিকতর তদন্ত করলে ডা. নুসরাতের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে।