রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আজ শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) আদালতে আনে পুলিশ। এদিন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টিকে ভাইরাল করার জন্য যেভাবে নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, ওইভাবে তাকে মারা হয়নি।’
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন বিকেলে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আদালতে হাজির করে পল্টন থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ পবিত্র কুমারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ জানুয়ারি ধার্য করেন।
আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ভোরে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি এবং ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এখনো পলাতক।
আজ আদালতের কাঠগড়ায় পবিত্রকে হাজির করা হলে কয়েকজন সাংবাদিক তখন তাঁর কাছে শিশু নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টিকে ভাইরাল করার জন্য যেভাবে নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, ওইভাবে তাকে মারা হয়নি। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটা ঘটেছে।’
নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পল্টন থানায় শিশু আইনে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ১৮ জানুয়ারি সকালে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে আসেন বাদী। বেলা ১টার দিকে আনতে গিয়ে দেখেন, শারমিন জাহান শিশুটির হাত জোর করে চেপে ধরে আছেন। তাঁর স্বামী পবিত্র বড়ুয়া চেয়ারে বসে আছেন। তখন বাদী তাঁর সন্তানকে প্রচণ্ড ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় দেখেন। এরপর শিশুটিকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বারবার কান্না করে বলছিল, ‘মা মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দিবে এবং মুখ সেলাই করে দিবে। আমি স্কুলে যাব না।’
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে শিশুর মা-বাবা স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে অফিসে নিয়ে গিয়ে অনবরত মুখে ও গালে চড়-থাপ্পড় মারছেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন এবং সোফার সঙ্গে চেপে ধরে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
নির্যাতনের ফলে শিশুটির মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং কানে কম শুনতে পাচ্ছে।পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর মধ্যে শিশুটির মা গতকাল শারমিন এবং তাঁর স্বামীকে আসামি করে মামলা করেন।