বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনায় সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আজ শুক্রবার সরস্বতীপূজা উদ্যাপিত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও বাড়িতে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।
ভোরে দেবীর প্রতিমায় ফুল অর্পণ ও পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে ভক্তরা দেবীর কাছে বিদ্যা, জ্ঞান ও শুভবুদ্ধির প্রার্থনা করেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাতা-কলম, বই ও বাদ্যযন্ত্র পূজার অংশ হিসেবে দেবীর চরণে অর্পণ করা হয়। এ সময় শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী—দেবী সরস্বতী জ্ঞান ও বিদ্যার প্রতীক। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হাতে বীণা ধারণ করার কারণে দেবী সরস্বতী ‘বীণাপাণি’ নামেও পরিচিত।
প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সরস্বতীপূজা উদ্যাপিত হয়েছে। হলের খেলার মাঠজুড়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মোট ৭৬টি মণ্ডপে দেবীর পূজার আয়োজন করেন। এর মধ্যে ৭৪টি মণ্ডপ বিভিন্ন বিভাগ ও সমাজের নানা দৃষ্টিকোণভিত্তিক থিমে সাজানো হয়। প্রতিটি মণ্ডপেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
অন্য বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সরস্বতীপূজা উদ্যাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল। তিনি বলেন, ‘এবার অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপিত হয়েছে। সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল, যা আগে কখনো দেখিনি।’