ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ব্যয়ভার বহনে বিধি প্রণয়ন করতে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কুড়িগ্রামের এক শিশুর ব্যয়ভার বহনের জন্য কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এই সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আইন, জনপ্রশাসন, নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। সঙ্গে ছিলেন ইশরাত হাসান।
আজিজুর রহমান দুলু বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৩ (২) ধারায় বলা আছে, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ব্যয়ভার বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও ওই বিধি তৈরি করা হয়নি। তাই বিধি করার বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আজিজুর রহমান বলেন, ২০১০ সালে কুড়িগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক নারী মামলা করলে দীর্ঘ ১১ বছর পর রায় হয়। রায়ে আদালত আসামি খয়ের আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সেই সঙ্গে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া ওই কন্যাশিশুর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারকে। কিন্তু কোনো বিধিমালা না থাকার কারণে সরকার শিশুর ব্যয়ভার বহন করেনি। কুড়িগ্রামের ডিসি শিশুটিকে এতিমখানায় দেওয়ারও চেষ্টা করেন। তাই গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রিট করা হয়।