ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহর ‘ধৃষ্টতামূলক’ বক্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাবি ছাত্রলীগ। আজ সোমবার সকালে তারা এই স্মারকলিপি দেয়।
এর আগে গতকাল রোববার ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় ড. রহমত উল্লাহ খন্দকার মোশতাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বলে অভিযোগ তোলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একাধিক শিক্ষক। এরই জেরে এই স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ খন্দকার মোশতাক আহমেদকে জ্ঞাত-অজ্ঞাভভাবে শ্রদ্ধা জানানোর মতো যেকোনো ঘটনা বা বক্তব্যকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়া দেশ স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্বের জঘন্যতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী-শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কারাবরণ করেছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতির পিতার খুনির নাম উচ্চারিত হতে পারে না।
স্মারকলিপিতে ঢাবি ছাত্রলীগ এই ঘটনাকে ‘ধৃষ্টতামূলক’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে কেবলমাত্র বক্তব্য প্রত্যাহারই নয়, এই বক্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপক রহমত উল্লাহর আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সুন্দর, পরিশীলিত ভাষায় বিষয়টির প্রতিবাদ করে যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। আশা করি তাদের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার মতো কেউ সমাজে থাকবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলনের মূল্যবোধের সঙ্গে কোনোক্রমেই কোনো অপশক্তির, ষড়যন্ত্রকারীর কোনো ধারণা-দর্শনের প্রতিফলন এই জাতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করবে না। একারণেই আমরা বিষয়গুলো নিয়ে খুবই যত্নশীল। এখানে দ্বিমত করার কোনো কারণ নেই। দাবিগুলোর সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি এবং আশা করি একটি সুন্দর সমাধান আসবে।’
এ সময় ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিব হোসেন, মাজহারুল ইসলাম শামীম, তিলোত্তমা শিকদারসহ কেন্দ্রীয়, ঢাবি ও তার হল শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।