শেরপুরের নকলা থানার গৃহবধূ শাহানাজ হত্যা মামলায় স্বামী রাসেলকে (৪২) গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল রবিবার শ্রীপুরের বাঘের বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব। পরে তাঁকে নকলা থানায় সোপর্দ করে র্যাব। গতকাল রোববার সকালে শেরপুর জেলার নকলা থানার জানুকিপুর গ্রাম থেকে শাহানাজের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার রাসেল মিয়া গাজীপুর জেলার পৌরসভার বৈরাগীরচালা গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকালে নকলা থানা-পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে শাহনাজের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নকলা থানায় হত্যা মামলা হয়। এরপর রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে র্যাবের সহায়তা চান নকলা থানা-পুলিশ। এরপর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে মাঠে নামে র্যাব। পরে রোববার বিকেলে শ্রীপুরের বাঘের বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জানায়, পাঁচ বছর আগে তিনি শাহানাজকে বিয়ে করেন। শাহানাজ তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। শ্বশুর বাড়ির পাশে বাড়ি করে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তিনি। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাঁদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। পিডিডি নামের এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি নিয়ে তাঁদের ঝগড়া বেড়ে যায়। কিস্তির টাকার জন্য প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো তাঁদের। গত শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কিস্তির টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলা দেখে শনিবার রাত তিনটার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। এ সময় কিস্তির টাকা জোগাড় হয়েছে কি না জানতে চাইলে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পরেন তিনি। একপর্যায়ে স্ত্রী তাঁকে লাথি মারেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার স্ত্রী নিহত হয়। এরপর ঘরে স্ত্রীর লাশ রেখে বাহির থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।