হোম > সারা দেশ > ঢাকা

একদিন আগে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন করল বাংলা একাডেমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আলোচনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির আয়োজনে কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এই আয়োজন চলে। জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী আগামীকাল (শুক্রবার), তবে একাডেমি একদিন আগেই সেটি উদ্‌যাপন করল। 

অনুষ্ঠানে ‘নজরুলের চেতনালোক আমাদের অবলোকন বনাম কবির কথন’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা করেন রাজধানীর রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। 

তিনি বলেন, ‘নজরুল আমার বিবেচনায় এতই অসাম্প্রদায়িক যে, তাকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রমাণ করার আমার মনে হয় না যে দরকার আছে। এ কারণে আমি নজরুলের চেতনালোক বলতে যা বোঝায় সেটা নিয়েই বলব। এটা আমি দুই ভাগে ভাগ করেছি। এক-নজরুলকে আমরা কীভাবে দেখি। দুই-যেসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নজরুলকে দেখি সেসব বিষয় আমরা নজরুলের লেখায় কী পাই।’ 

তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘নজরুল বললেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি বিদ্রোহী কবি। ছোটবেলায় নজরুলের ঝাঁকড়া চুলের ছবিই সব জায়গায় দেওয়া হতো। এতে বিদ্রোহী ভাব দেখা যেত। তখন আমরা জানতামও না যে, তার আরও অনেকগুলো ছবি আছে।’ 

উপাচার্য আরও বলেন, ‘নজরুলের একটি জিনিস আমরা খেয়াল করিনি। অথবা তার বিদ্রোহী সত্তার কারণে পেছন দিকে পড়ে যায়। সেটি হলো তাঁর বাঙালি মানস। নজরুল অনেক বড় একজন বাঙালি ছিলেন। সেটা আমরা ভুলে যাই। ৪৭ এ দেশভাগ, আমরা যে ভৌগোলিক মানচিত্র পেয়েছি একাত্তরে এর মধ্যে বাঙালির একটা বড় অংশ মানচিত্রের বাইরে থেকে গেছে। এর মধ্যে নানারকম ধর্মীয় ভেদাভেদের ব্যাপার আছে। এগুলো মিলে আমরা সবাই বাঙালি মনে করি এমন লোক বেশি খুঁজে পাওয়া যায় না।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, উনি তো বাঙালি কিন্তু মুসলমানদের তেমন পছন্দ করতেন না। বা উনি তো বাঙালি কিন্তু হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই করেছেন। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে বাঙালি বিবেচনা আটকে থাকে। কিন্তু নজরুলের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। নজরুলকে দুই বাঙলার মানুষ, সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে গ্রহণ করেছে। অন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত সেই ছড়া মনে করা যেতে পারে যে ভুল হয়ে গেছে বিলকুল, আর সবকিছু ভাগ হয়ে গেছে, ভাগ হয়নিকো নজরুল।’ 

নজরুল সাহিত্যের গবেষণা, অনুবাদ ও নজরুল সংগীতের চর্চার জন্য দেওয়া হয় নজরুল পুরস্কার। ২০২২ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য দুই লাখ টাকা। এ বছর সেটি পেয়েছেন অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ডা. মোমেনা খাতুন। 

বিদেশ থেকে তিনি ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘এই বৃদ্ধ বয়সে এই প্রতিষ্ঠান থেকে নজরুল গবেষণার ওপরে পুরস্কার দেওয়ায় আমি যার পর নাই প্রশান্তি পেয়েছি এবং আনন্দিত। নজরুল গবেষণায় যিনি আমাকে সব সময় উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি আমার স্বামী। তাঁর কথা বলতেই হয়।’ 

পরে তিনি অনুরোধ করেন, এই পুরস্কার যেন এত বৃদ্ধ বয়সে না দেওয়া হয়। সচল থাকলে তিনি নিজেই এসে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারতেন। 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। সূচনা বক্তব্য দেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. মোবারক হোসেন। 

আয়োজনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন—শিল্পী লীনা তাপসী খান, প্রদীপ কুমার নন্দী, রওশন আরা সোমা, আবৃত্তি করেন শিল্পী ডালিয়া আহমেদ। তবলায় ছিলেন বিপ্লব শর্মা, কী বোর্ডে বিনোদ রায় এবং সেতারে ফিরোজ খান।

শহীদ জিয়া শিশুপার্ক: স্বপ্নপুরীতে দুঃস্বপ্নের দৈত্য

বাঁচানো যায়নি রাস্তা থেকে উদ্ধার অনাথ শিশু মাহিকেও

মওদূদীর তফসির গ্রন্থ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে

মিরপুর ১০ মেট্রো স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান

ধামরাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত, ১৪ দিন পর আহতের মৃত্যু

মধ্যরাতে বাবা-মায়ের কাছ থেকে হারিয়ে যায় শিশু, সকালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি

রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

রাজধানীর বংশালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যুবক নিহত, দগ্ধ ১

সায়েদাবাদে থাকবে সিটি টার্মিনাল, আন্তজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঘুষ নিয়ে হাতেনাতে আটক বেবিচক পরিদর্শকের পাঁচ বছর কারাদণ্ড