হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ভার্চুয়াল আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আইনজীবীদের আলটিমেটাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকাজ সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকাজ সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছেন আইনজীবীরা। আগামী মঙ্গলবারের আগে ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হলে ওই দিন থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে কালো পতাকা মিছিল করে সমাবেশের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন আইনজীবীরা। সমাবেশে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান।

মাহবুবুর রহমান খান বলেন, ‘দুই দিনের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা নিয়মিত আসছেন। একটা দেশের বিচার বিভাগ আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের মূল জায়গা। এটা তেল, গ্যাস বা অন্যান্য সংকটকে অতিক্রম করেও চালু রাখতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট কোনো দোকান বা শপিং মল নয় যে ৮টার পর বন্ধ করে দিলেও সমস্যা হবে না। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে হলে যেকোনো মূল্যে বিচার বিভাগকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’

মাহবুবুর রহমান খান আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আপিল বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ৯৫টি মামলার শুনানি ও ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অথচ শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানি হলে শুধু চেম্বার আদালতেই ১৫০ থেকে ২০০টি মামলার শুনানি হয়। হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র ৬১২টি মামলার শুনানি হয়েছে। নিয়মিত আদালতের তুলনায় তা অর্ধেকেরও কম। এই পদ্ধতিতে বিচারের জায়গাটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের বিচারের প্রার্থনা বন্ধ হওয়ার পথে। তাই ২৮ এপ্রিলের (আগামী মঙ্গলবার) মধ্যে ভার্চুয়াল আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আইনজীবী সমাজ ওই দিন দুপুর থেকে কালো পতাকাসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।

এর আগে দুপুরে আইনজীবীরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে সমিতি ভবনে মিছিল করেন। মিছিলে শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। এ সময় তাঁরা ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, শাহ আহমেদ বাদল, মাহবুবুর রহমান খান, আশরাফুল ইসলাম, মাকসুদ উল্লাহ, আনিসুর রহমান বিশ্বাস রায়হান প্রমুখ।

সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে

সমাবেশে সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছি যে সাংবাদিকেরা যেকোনো আদালতে প্রবেশ করবেন, দেখবেন এবং সেটা জাতিকে জানাবেন। এটা না হলে, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না হলে সবচেয়ে ক্ষতি হবে বিচার বিভাগের। ক্ষতি হবে ন্যায়বিচারপ্রার্থী জনগণের। কাজেই আমরা আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি, অবিলম্বে সাংবাদিকেরা যেন আপিল বিভাগসহ সমস্ত আদালতে আগের মতো ফ্রি এক্সেস পান। একটা দেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয় তখনই, যখন সংবাদমাধ্যমগুলো কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়।’

মাহবুবুর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে সেনসিটিভ মামলাগুলোর বিচার হচ্ছে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে। সেই ট্রাইব্যুনালের বিচারও লাইভ প্রচার হতে দেখেছি। সুতরাং সেটা যদি লাইভ প্রচার হতে পারে, তাহলে এই আদালতের এজলাসের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীদের যাওয়ার প্রতিবন্ধকতাটা কোথায়, সেটা আমাদের কাছেও বোধগম্য নয়। আমরা বিশ্বাস করি, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অবসান শেষে বর্তমান বিচার বিভাগ জনমানুষের জন্য, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আর সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে তাঁরা স্বচ্ছতার যে জায়গাটা, মানুষের বিশ্বাসের যে জায়গাটা, সেটাতে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি করবেন না। সে ক্ষেত্রে প্রকাশ্য বিচারে কোনো অন্তরায় থাকার কথা নয়।’

থানার ভেতরে ১০ সাংবাদিককে পেটাল ছাত্রদল, নীরব পুলিশ

শাহবাগ থানা চত্বরে ডাকসুর দুই নেতাকে মারধর

সাংবাদিকেরা প্রবেশাধিকার না পেলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: সমাবেশে আইনজীবীরা

ছাগল-কাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরানের জামিন

জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও ছাত্রীকে বিবাহের অভিযোগ

জ্বালানি সংকট: যেখানে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক, সেখানে বেশি ভিড়

আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

রানা প্লাজা-তাজরীনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণসহ ৭ দফা দাবি

মহাখালীতে বাসের ধাক্কায় নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্ত

গ্রিন রোডে আবাসিক হোটেলের বাথরুমে মিলল তরুণীর মরদেহ