রাজধানীর জুরাইনের প্রধান রাস্তা থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে এই উচ্ছেদ অভিযান হয়। এতে কয়েক শ হকারকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে কয়েকজন হকারকে নগদ অর্থ জরিমানাসহ অস্থায়ী দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজধানীর ঢাকা-মাওয়া সড়কের প্রবেশমুখ জুরাইন এলাকার প্রধান রাস্তার উভয় পাশ কয়েক দশক ধরে হকারদের দখলে। কিছু অসাধু ব্যক্তিকে চাঁদা দিয়ে এসব হকার রাস্তার ওপর দোকান বসিয়ে পণ্য বিক্রি করেন। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম রাস্তায় প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এর আগে অসংখ্যবার এসব হকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলে তাঁরা পুনরায় সরঞ্জাম নিয়ে বসে পড়েন। আজকেও একই ঘটনা ঘটে।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুর রহমানের নেতৃত্বে জুরাইন রেলগেট ও বিক্রমপুর প্লাজার আশপাশে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ১২টি মামলায় নগদ ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং বেশ কিছু স্থাপনা জব্দ করা হয়। তবে ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলে হকাররা পুনরায় রাস্তা দখলে নিয়ে দোকান বসান।
এ ব্যাপারে এলাকার বাসিন্দা সেলিম জানান, এর আগেও অনেকবার এসব হকার উচ্ছেদ করা হয়েছিল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হকাররা পুনরায় রাস্তা দখল করে কিছুক্ষণ পর বসে পড়েন।
পথচারী রানা মিয়া বলেন, ‘এই নাটক আগেও দেখেছি। কিন্তু এটা কতক্ষণ থাকে, সেটাই দেখার ব্যাপার।’ তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম ব্যস্ততম মেইন রোডের ওপর হকার বসে কি না, আমার জানা নেই।’
হকার মহব্বত বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে দোকান বসিয়ে পণ্য বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু আমাদের বসতে না দিলে আমরা কী করে খাব? সামনে ঈদ, তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়ে যাব।’
এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুর রহমান জানান, রমজানে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে ভবিষ্যতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।