স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেট করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে জড়িত আলোচিত ও বিতর্কিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মিঠুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মিঠুর বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁকে আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
অন্যদিকে মিঠুর পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। দুদক রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে শুনানি করে। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
দুদকের বিশেষ পিপি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গতকাল বুধবার রাতে গুলশান এলাকা থেকে মিঠুকে আটক করা হয়। ওই দিন দুদক তাঁর বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়। পরে দুদকের সমন্বিত কার্যালয়-১ ঢাকায় মামলা করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু লেরিক্সাকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাটদের স্বত্বাধিকারী। তিনি বিভিন্ন সময়ে জমি ক্রয়, লিজ, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনা, বাড়ি নির্মাণ, শেয়ার ও কোম্পানিতে বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাবে অর্থ, স্বর্ণালংকার, আসবাব ও ইলেকট্রনিকসামগ্রী মিলে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন।
এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁর নামে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মোট সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
ব্যবসা, বাড়ি ও কৃষিজমি থেকে আয়, বেতন-ভাতা, ফার্মের অংশ, ব্যাংক সুদ, নিরাপত্তা জামানতের সুদ ও বৈদেশিক রেমিট্যান্স মিলিয়ে মোতাজ্জেরুলের বৈধ আয় পাওয়া গেছে প্রায় ৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
ফলে অনুসন্ধানে দেখা যায়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে তাঁর অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রকাশিত বহুল আলোচিত পানামা পেপারসে নাম আসে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে
আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭৫ কোটি ৮০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ, উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগসহ দেশে ও দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এই অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান ও মামলাটি তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামির ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।