ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক শিশু রোগীকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢামেকের এক কর্মচারীর অনিয়মের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সাত মাস বয়সী শিশুটির নাম হাসিব আহমেদ মিনহাজ। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পার্বতীপুরে। এ ঘটনায় হাসপাতালের অভিযুক্ত কর্মচারী মো. এনায়েত করিমকে (৪০) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন মিনহাজের পরিবারের সদস্যরা। শিশুটির মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
শিশু মিনহাজের বাবার নাম হেলাল মিয়া আর মা মেঘলা খাতুন। হেলাল স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী আর মা গার্মেন্টস কর্মী। তাঁরা থাকেন গাজীপুরের বাসন এলাকায়।
দরিদ্র কর্মজীবী হেলাল মিয়া জানান, তাঁদের একমাত্র সন্তান মিনহাজ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করায় ছেলেকে তার নানি রেখা বেগমের কাছে রংপুরে রেখেছেন। মিনহাজ বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। একাধিক হাসপাতাল ঘুরে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ছেলেকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তাঁরা।
হেলাল মিয়া আরও জানান, জরুরি বিভাগ থেকে তাঁদের পাশেই শিশু ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সরাসরি ভর্তি না নিয়ে সেখানকার চিকিৎসকেরা বলেন ওয়ার্ডে গিয়ে বেড খালি আছে কি না তা জানতে। তখনই হাসপাতালের কর্মচারী এনায়েত নিজে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে যান। তিনি সেখান থেকে ঘুরে এসে চিকিৎসককে বলেন, বেড খালি নেই। এরপর এনায়েত হেলালের পরিবারকে কাঁটাবন এলাকার হোম কেয়ার হাসপাতালের কথা জানান। সেখানে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা বিল হবে বলেও জানান তিনি। নিরুপায় পরিবারটি এতে রাজি হয়।
হেলাল মিয়া বলেন, অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সাবধান করে বলেছিলেন, দুই মিনিটের জন্যও মিনহাজের অক্সিজেন মাস্ক খোলা যাবে না। কর্মচারী এনায়েতকে সে কথা বলাও হয়। কিন্তু তিনি শিশুটির মাস্ক খুলে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হবে বলে হাসপাতালের ভেতর দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন। একসময় মিনহাজকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় তার পরিবারটি বুঝতে পারে সে আর বেঁচে নেই। তখন সবাই কান্নাকাটি শুরু করলে এনায়েত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন সবাই তাঁকে ধরে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে তুলে দেন।
শিশুটির মামা মো. রিপন বলেন, ‘আমার ভাগনের ডায়রিয়া হয়েছিল। রংপুর মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে কিডনির সমস্যা ধরা পরে। এরপর ঢাকার শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসি। সিট না থাকায় সেখানে আমাদের ভর্তি দেয়নি। সেখানে এক দালাল আমাদের ধানমন্ডির এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা কিডনির সমস্যার কথা শুনে কিডনি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। আমরা গ্রামের মানুষ। যে যেভাবে বলেছে, সেভাবেই কাজ করেছি। আমাদের বাচ্চাটাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এর কঠিন শাস্তি দাবি করি।’
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনমথ হালদার বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক রাখার খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে আসি। এনায়েত করিম নামের এক সরকারি কর্মচারীকে ক্যাম্পে আটক রাখা হয়। জানতে পেরেছি, একটি শিশু রোগীর পরিবারকে ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’