রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার সংস্থাটির উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক জানায়, মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই বিচারপতি রাজউক থেকে উত্তরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বরাদ্দ পান। পরবর্তীতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে রাজউক পূর্বাচল প্রকল্পে প্লটের জন্য আবেদন করেন। সেখানে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ পান। ওই তিন কাঠার প্লটটিকে পরবর্তীতে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করেন এস কে সিনহা। কিন্তু পূর্বাচলের প্লটটি না নিয়ে সাবেক এই বিচারপতি প্লটটি উত্তরায় স্থানান্তর করান। সেই প্লটের জন্য ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেন এস কে সিনহা।
দুদক অনুসন্ধানে জানতে পারে, ওই ভবনের নির্মাণ খরচ ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। এ ছাড়া প্লটের মূল্য হিসেবে রাজউককে পরিশোধ করা হয় ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্লটের মূল্যসহ ভবন নির্মাণে মোট ব্যয় ৭ কোটি ৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। এই সম্পদের মধ্যে শুধু খালেদা চৌধুরী নামে এক নারীর কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির আগাম ৭০ লাখ টাকা পান এস কে সিনহা। সেই টাকা বাদে বাকি ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং শংখজিত সিংহ নামে এক ব্যক্তির হিসাবে স্থায়ী ও নগদে জমা আছে ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এস কে সিনহা অবৈধভাবে মোট ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। ওই টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রুপান্তর ও হস্তান্তর করে পাচারের অভিযোগেরও প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।