প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক আইনজীবীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন অ্যাডভোকেট শফিক নজরুল।
আজ বিকেলে তাঁকে আদালতে আসামিকে হাজির করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার এই আইনজীবীকে আটক করে পুলিশ। পরে প্রতারণা মামলায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শফিক নজরুল ‘LAW DOCTOR’ পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’ এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, ৮ লাখ টাকা দাবি করে ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। পরে গত ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশে আসামি দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করেন ও ফেসবুকে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেন। রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন করা যাবে।
এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল বলেন,‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোথায় কার কাছ থেকে প্রশ্ন বাবদ টাকা নিয়েছি এটার প্রমাণ নেই। কেউ কোনো প্রমাণ করতে পারবে না। আমি সাজেশন দিয়েছি পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? এটা মিথ্যে মামলা। আমাকে গ্রেপ্তার করেছে কাল। তারপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কী এই ক্ষমতা আছে?’
তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।