বাংলাদেশি সানিউর টি আই এম নবী ও ভারতীয় নারী সাদিকা শেখের তিন বছরের সন্তানকে বাবাসহ আগামী রোববার হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশের ঢাকা মহানগর কমিশনার ও গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওই দিন বিকেল ৩টার মধ্যে তাদের হাজির করতে বলা হয়েছে। মায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গতকাল মঙ্গলবার ওই শিশুকে বিদেশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট ওই শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেন। আর বাবা সপ্তাহে তিন দিন শিশুর সঙ্গে সময় কাটাতে পারবে বলে আদেশ দেন। ওই আদেশের পর শিশুর কথা চিন্তা করে গুলশান ক্লাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে জিডি করেন বাবা। জিডি মূলে নন এফআইআর মামলাও হয়। আর কৌশলে শিশুটিকে নিয়ে যায় বাবা। বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে সোমবার শিশুটিকে সকাল ১০টার মধ্যে আইনজীবীর চেম্বারে হাজির করতে বলেন। কিন্তু শিশুটিকে হাজির করা হয়নি। গত ১৫ নভেম্বর ওই শিশুকে ১৬ নভেম্বর সকালের মধ্যে (মঙ্গলবার) মায়ের আইনজীবীর কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু ওই শিশুর বাবা আইনজীবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। এ কারণে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
২০১৭ সালে হায়দরাবাদের সাদিকা শেখ নামে এক নারীকে বিয়ে করেন বারিধারার টি আই এম নবী। বিয়ের পর তারা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস শুরু করেন। কয়েক মাস পর তারা ঢাকায় ফিরে আসেন। এরই মধ্যে ওই দম্পতির এক ছেলের জন্ম হয়। কিন্তু করোনাকালে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। বিষয়টি ভারতে মেয়েটির স্বজনরা জানতে পেরে ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হয়। সমাধান না হওয়ায় সাদিকার বোন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আইনি সহায়তা চান। এর মধ্যে সাদিকাকে ডিভোর্স দেয় নবী। পরে একটি মানবাধিকার সংগঠন বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করে।