করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিন আজ। বেলা বারোটা পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি তেমন ছিলো না। তবে বৃষ্টি থামার পরই রাজধানীর শাহবাগে মানুষের উপস্থিতি গত তিন দিনের তুলনায় বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও ছিলো না চোখে পড়ার মতন।
রাস্তায় বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে পথচারীরা দিচ্ছেন নানান যুক্তি।
ধানমন্ডির বাসিন্দা মোতাহার হোসেন। পেশায় ব্যবসায়ী। নিজ গাড়িতে করে যাচ্ছেন বারডেম হাসপাতালে। রাস্তায় গাড়ি আটকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দায়িত্বে থাকা পুলিশ। বাইরে বের হওয়ার কারণ হিসেবে মোতাহার হোসেন বলেন, বন্ধুর মা অসুস্থ। তাঁকে দেখতে যাচ্ছেন।
তাঁর যুক্তি ভালো না লাগলেও হাসপাতালের কথা বলায় তাঁকে যেতে দিয়েছে পুলিশ।
বাংলামোটরের দুই বন্ধু আরিফ হোসেন ও জিসান আহমেদ। রিকশায় করে যাচ্ছিলেন বংশাল। পুলিশের চেকপোস্টে বের হওয়ার কারণ বললেন, ফুড ডেলিভারির কাজ পেয়েছেন। তাই সাইকেল কিনতে বংশাল যাচ্ছেন। তবে কারণ যৌক্তিক মনে না হওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে তাঁদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এসআই বলেন, গত দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার থাকায় মানুষ তেমন বের হননি। যারা বের হচ্ছেন এদের বেশির ভাগ এখন হাসপাতালের অজুহাত দিচ্ছে। তাই ছেড়ে দিতে হয়। যাদের বের হাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই তাঁদের আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। তবে মাস্ক পড়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। জনসাধারণ যদি সচেতন হয়ে এগিয়ে না আসে তবে আমাদের কাজটাও কঠিন হয়ে যাবে।
শাহবাগের মোড়ে সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট মোকাররম হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কোন যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় এগারো জনকে একচল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় আমাদের সদস্য সংখ্যা কিছুটা কম। বের হওয়ার কোন কারণ দেখাতে না পারায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।'