গাজীপুরের শ্রীপুরে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের নির্মাণাধীন বসতবাড়ি রাতের আঁধারে ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। গতকাল বুধবার রাত ২টায় উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুল কাদের বাদী হয় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জজ মিয়া (৪২), মৃত রহমত আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (৪৫), ইসমাইল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫), আব্দুছ ছামাদের ছেলে রাজন (২৭) ও তাঁদের ২৫-৩০ জন সহযোগী।
আব্দুল কাদের জানান, ১৯৮১ সালে ৫৫ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ ভোগদখল করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে অভিযুক্তরা রাস্তা দেওয়ার ইস্যু করে কাজে বাধা দেয়। এ ঘটনায় মাওনা ইউপি চেয়ারম্যান গত রোববার (২১ আগস্ট) উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বসেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান জমির মালিক আব্দুল কাদেরকে ৬ ফুট রাস্তা দেওয়ার অনুরোধ করেন। চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী আব্দুল কাদের প্রতিবেশীদের চলাচলের জন্য তাঁর ক্রয়কৃত জমি থেকে ৯ ফুট রাস্তার জন্য ছেড়ে দেন। পরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে আব্দুল কাদেরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় অভিযুক্ত জজ মিয়া, সফিক, ইমরান, রাজনের নেতৃত্বে তাঁদের ২৫-৩০ জন সহযোগী গতকাল রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
আব্দুল কাদেরের ছেলে শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বুলবুল মিয়া বলেন, ‘রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তাতেও আমার বসতবাড়ি রক্ষা হয়নি।’
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য জজ মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে আব্দুল কাদের বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। রাতের আঁধারে আব্দুল কাদেরের লোকজন ঘর ভেঙে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামন বলেন, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বসতবাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।