রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আবারও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ার শেল) ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছেন। আন্দোলন ও উত্তেজনার মুখে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর ও মৌচাকসহ একাধিক এলাকার কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকেরা সংগঠিত হয়ে সড়কে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এর আগে গতকাল রোববারও একই এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধ করতে এসেছিল। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’
বর্তমানে মিরপুর-১০ ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। সড়কে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আশেপাশের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, সকাল থেকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন। শিল্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কারখানার সামনে শিল্প পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
অসন্তোষের কারণে সকাল ৮টা থেকেই কোনাবাড়ী ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবি—সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
বিক্ষোভরত এক শ্রমিক বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও আমাদের মজুরি সে অনুযায়ী বাড়েনি। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, আমাদের বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে তা দ্রুত ঘোষণা করতে হবে।’
উল্লেখ্য, শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পোশাকখাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। পোশাকশ্রমিকদের সহিংস বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সহিংসতার বিষয়ে শ্রমিকদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন এবং কারখানা ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকেরা জড়িত নন। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ‘বহিরাগত’ কিছু লোক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।