মুন্সিগঞ্জ: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা ও খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের প্রধান মুফতি নূর হোসাইন নূরানীকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে মুন্সিগঞ্জ ডিবি ও সদর থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সিরহাট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার সকালে আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শুক্রবার দুপুরে রিমান্ড চেয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, গত ২৮ মার্চ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে পুলিশের উপর হামলা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে গত ৩০ মার্চ সিরাজদিখান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ৬১৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নূরানী বিভিন্ন সময় সরকারবিরোধী বক্তব্য দিয়ে নিজেকে প্রচার করতেন। হেফাজত নেতা মামুনুল হক, বাবুনগরী, আব্দুল হামিদ মধুপুর সহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির অসংখ্য নেতাদের সাথে তাঁর সখ্যতা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ডাকা হরতালের দিন মুন্সিরহাট এলাকার একটি সভায় মুফতি নূর হোসাইন নূরানীর দেওয়া বক্তব্যে ভিডিও’র কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিমকহারাম ও মীরজাফর বলে মন্তব্য করেন নূর হোসেন নূরানী।
সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যে সকল হেফাজত নেতার রক্ত ঝড়িয়েছেন সে রক্তের কি ক্ষমতা তা ছয় মাসের মধ্যেই তা টের পাবেন। মোদীকে এনে যারা দেশকে কসাই খানা বানিয়েছে তাঁদের এদেশে ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে নূর হোসাইন বলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মৃণাল কান্তি দাসের ভাতিজা আপন দাসকে যদি আয়ত্তে আনতে না পারেন এবং সে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে চ্যালেঞ্জ করছি তাঁকে মুন্সিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মাওলানা এহেতাসুমুল হক সাখী বিন জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, রয়েল রিসোর্টে মামুনুলকাণ্ডের পর একের পর এক মামলা হতে থাকে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এরপর শুরু হয় গ্রেপ্তার সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাতেই হেফাজতের মধ্যম ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।