আগামীকাল বুধ ও পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ ও ৩০) এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচন। দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভোটাররা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (বিরতি ছাড়া) ভোট দেবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, তবে এবারের নির্বাচনে আলোচিত দিক হলো আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা কোনো প্যানেল দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই প্যানেলে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াত পৃথক প্যানেল দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের আইনজীবী নেতা নির্বাচনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা লড়ছেন ‘নীল প্যানেলে’ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল)।
অন্যদিকে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন ‘সবুজ প্যানেলে’ (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)। প্রতিটি প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন এবং স্বতন্ত্র ৮ জনসহ মোট ৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’ (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। কিছু আওয়ামীপন্থী আইনজীবী স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে চাইলেও ‘অনুমতি’ না মেলায় তারা অংশ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট ও বিজয়ের প্রত্যাশা করছে বিএনপিপন্থী নীল প্যানেল ও জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল।
বিএনপি সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ প্রার্থীরা হলেন সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।
অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের প্রার্থীরা হলেন— মো. রেজাউল করিম চৌধুরী (সিনিয়র সহসভাপতি), মো. আবুল কালাম আজাদ (সহসভাপতি), মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস (কোষাধ্যক্ষ), মো. এলতুতমিশ সওদাগর অ্যানি (সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক), মো. মাহাদী হাসান জুয়েল (সহসাধারণ সম্পাদক), খন্দকার মাকসুদুল হাসান সবুজ (লাইব্রেরি সম্পাদক), মারজিয়া হীরা (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মো. আফজাল হোসেন মৃধা (অফিস সম্পাদক), মো. সোহেল খান (ক্রীড়া সম্পাদক), এ.এস.এম ফিরোজ (সমাজকল্যাণ সম্পাদক) এবং শফিকুল ইসলাম শফিক (তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক)।
কার্যকরী কমিটির সদস্য সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
জামায়াত সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই প্যানেলে অন্যান্য অন্যান্য সম্পাদকীয় পদ প্রার্থী হলেন—মো. শাহিদুল ইসলাম (সিনিয়র সহসভাপতি), মো. লুৎফর রহমান আজাদ (সহসভাপতি), মো. আজমত হোসেন (কোষাধ্যক্ষ), মো. শাহীন আক্তার (সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক), মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া (সহসাধারণ সম্পাদক), মো. শাহাদাত হোসেন (লাইব্রেরি সম্পাদক), বিলকিস আক্তার (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মো. আবদুর রাজ্জাক (অফিস সম্পাদক), বাবুল আক্তার বাবু (ক্রীড়া সম্পাদক), মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা (সমাজকল্যাণ সম্পাদক) এবং মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ (তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক)।
সবুজ প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থীরা হলেন—বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।