হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বাংলাদেশের রেজুলেশন জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক বাংলাদেশের উত্থাপিত রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে গৃহীত এই রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। রেজুলেশনটিতে পানিতে ডুবে মৃত্যু-কে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়ে বুধবার এটি গ্রহণ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এ ধরণের রেজুলেশন এটাই প্রথম। বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গত ২০১৮ সালে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি রেজুলেশনটিতে সহ-নেতৃত্ব দেয় আয়ারল্যান্ড আর এতে সহপৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে ৮১ টি দেশ। পানিতে ডুবে মৃত্যু বিশ্বের প্রতিটি জাতিকেই ক্ষতিগ্রস্থ করছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে রেজুলেশনটিতে। পাশাপাশি অগ্রহণযোগ্য উচ্চহারের এই মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণার্থে একটি কর্ম-কাঠামোও প্রদান করা হয়েছে এতে।

রেজুলেশনটিতে আরও বলা হয়েছে, পানিতে ডুবে-মৃত্যুর মতো প্রতিরোধযোগ্য কারণেও বিভিন্ন দেশে শিশু ও কিশোর-কিশোরী অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। পানিতে ডুবে-মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, জাতীয় পদক্ষেপকে উৎসাহিত করা এবং এ বিষয়ক সর্বোত্তম অনুশীলন ও সমাধানসমূহ পারষ্পরিকভাবে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যে ২৫ জুলাইকে ‘বিশ্ব ডুবে-মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ পরিষদ।

রেজুলেশনটি উত্থাপনের সময়ে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বৃহত্তর বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যে একটি জাতিসংঘ রেজুলেশন গ্রহণের তাগিদ অনুভব করেছিল বাংলাদেশ। আর সে কারণেই এই প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আমরা বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি, আমরা যদি পানিতে ডুবে মৃত্যুহারকে শূণ্যের কোটায় না আনতে পারি তবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের সাফল্য অর্থাৎ এসডিজি-৩ অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণের মতো ঘটনার ৯০ ভাগ সংঘটিত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে এবং এশিয়াতে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মর্মে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বৈষম্য।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, যেহেতু পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলি দরিদ্র পরিবারকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করছে, তাই এটি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ এসডিজি-১ সহ আরও কয়েকটি এসডিজি অর্জনেও ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে মর্মে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, আর যাতে কোনো মূল্যবান জীবনের পানিতে ডুবে মৃত্য না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকার। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষা, নারী ও শিশু, সমাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সসহ ১২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু হ্রাস সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ণে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে। বিশ্বে বেশ কয়েকটি দেশে পানিতে ডুবে-মৃত্যু শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৬ খুন: আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কারাগারে সম্রাট

আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ৫ পুলিশ সদস্য আহত

বিরিয়ানি দিলে বুঝতে পারি ঈদের দিন— হুম্মামের মুখে গুমের অভিজ্ঞতা

বিআরটিএ ইকুরিয়ায় অভিযান, ২ দালালের কারাদণ্ড

সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কিশোরের ৩৮ টুকরা কঙ্কাল: হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন দাবি পিবিআইয়ের

হাতিরঝিলে বাসা থেকে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

সরে গেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকেরা, বাড্ডায় যান চলাচল শুরু

ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ

মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল