গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন দেড় বিঘা পুকুর এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বরমী বাজারের সকল ময়লা ফেলার কারণে পুকুরটি এরই মধ্যে অস্তিত্ব হারিয়েছে। আগে এ পুকুরে মাছ চাষ করা হতো বলে জানিয়েছেন প্রবীণরা।
সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বরমী ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাড় ঘেঁষা এই পুকুরটি পশ্চিম এবং দক্ষিণ পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বসতবাড়ি। দক্ষিণ এবং উত্তর পাড়ে বাজারের সকল ময়লা পুকুরে ফেলা হচ্ছে। এতে পুকুর তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। লতাপাতা আর ঝোপঝাড়ে ভরে আছে পুকুরটি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, এত সুন্দর একটি পুকুর চোখের সামনে ভরাট হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়নি। এ পুকুরে এক সময় প্রচুর পরিমাণের মাছ চাষ করা হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির মোড়ল বলেন, সরকারি পুকুর অযত্নে আর অবহেলায় ময়লা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। কেউ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখন পর্যন্ত পুকুরের অস্তিত্ব বিদ্যমান। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুকুরটি পুরোপুরি ভরাট হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. ছাদেক মিয়া বলেন, পুকুরটির পশ্চিম ও উত্তর পাশের কিছু অংশ দখল করে এরই মধ্যে বসতঘর গড়ে তুলেছে। এভাবে ভরাট হতে থাকলে পুকুরের সবটুকু জায়গা দখল হয়ে যাবে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, পুকুরে বর্তমানে টন টন ময়লা ফেলা হয়। গাড়িভর্তি ময়লা ফেলার কারণে পুকুর ভরাট হয়েছে। পুকুর এখন লতাপাতা আর ঝোপঝাড়ে ঘিরে গেছে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও বরমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হরুন খন্দকার বলেন, পুকুরটিকে তাঁর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে। পুকুরের জায়গা দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, পুকুরে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি কিছুদিন হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। পুকুর সংস্কার করতে সময়ের ব্যাপার। পাশাপাশি নির্বাচন চলে আসছে। পুনরায় নির্বাচিত হতে পারলে পুকুর সংস্কার করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমানে ময়লা বর্জ্য ফেলার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।