স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা ছাড়াই চলছে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অফিস কাম মাল্টিফাংশনাল ভবনের নির্মাণকাজ। এমনকি ভবনের তৃতীয় তলায় রডের জোড়া দেওয়ার অংশে অ্যাংকর না করেই বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম ও গাফিলতির চিত্র উঠে এসেছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনের পর সংস্থাটির এক সহকারী পরিচালক এ প্রতিবেদন তৈরি করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর প্রশাসনিক ভবনের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ তলার স্ট্রাকচারাল ডিজাইন পাওয়া যায়নি। ফলে পূর্ণাঙ্গ নকশা ছাড়াই ভবনের ওপরের তলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। আইএমইডি বলছে, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ছাড়া ভবন নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনের তৃতীয় তলায় রডের ল্যাপিং অংশে অ্যাংকর না করে রড বাঁধাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রডের ল্যাপিং ও অ্যাংকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে তা সংশোধন করা হয়। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমইডি।
এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রকল্পে অপচয় রোধের পাশাপাশি গুণগতমানের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ করার শর্তে প্রকল্পটির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আইএমইডির তথ্যমতে, দুই বছরমেয়াদি এ প্রকল্প পাঁচ বছর পার হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ। আর ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২ কোটি টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৬ কোটিতে।
এ অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও স্টিয়ারিং কমিটি মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তাদের আবেদনের পর আইএমইডির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যয় না বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আইএমইডি বলছে, এরপর আর কোনো অবস্থাতেই সময় বাড়ানো যাবে না।
এ বিষয়ে কথা বলতে আইএমইডি বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে আইএমইডি থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। আমি এই প্রকল্পে নতুন, কেন ৫ বছরের কাজ শেষ হয়নি? তার কারণ জানা নেই। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করব।’
এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করার শর্তে প্রকল্পটির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।