বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় যেভাবে নির্যাতনের শিকার হতো তার বর্ণনা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশু গৃহকর্মী (১১)। এ সময় সে অভিযোগ করে, তাকে প্রতিদিনই মারা হতো। বাসার সবাই তাকে মারধর করেছে। এমনকি কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই নির্যাতন করা হতো।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে সে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া তাকে আদালতে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। পরে আদালত শিশুটির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।
ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানান।
জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর শিশুকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে নেওয়া হয়। শিশুর বাবা তাকে জিম্মায় নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু মেয়েটি শারীরিকভাবে এখনো অসুস্থ থাকায় তাকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ফাহমিদা আক্তার রিংকি জানান, অসুস্থ থাকায় শিশুটিকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থতা সাপেক্ষে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার বিষয়ে শুনানি হবে।
শিশু সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবা গত ১ জানুয়ারি মামলা করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বীথি, বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।
বিমানের এমডির বাসায় কাজ করার সময় তাকে প্রতিদিন নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হতো। মসলা বাটার নোড়া দিয়ে তার হাত, পা ও পিঠে আঘাত করা হতো। চুল টেনে তুলে ফেলা হতো। খুন্তি গরম করে তা দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।
শিশুটি জবানবন্দিতে অভিযোগ করেছে, সে সংসারের কোনো ক্ষতি না করলেও মারধর করা হতো। এমডির স্ত্রী তাকে বেশি মারতেন। ওই বাসার অন্য গৃহকর্মীরাসহ সবাই মারধর করতেন।
এদিকে সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া এই আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: