দেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’– এর সমাপনী কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতাসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে এ দূষণ। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও হৃদরোগীদের জন্য এর প্রভাব আরও বেশি।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সড়কে অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার শুধু পথচারী নয়, চালক ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
কর্মশালায় জানানো হয়, শব্দদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, মানসিক চাপ ও মনোযোগে বিঘ্নসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হৃদ্রোগে আক্রান্তদের জন্য এর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কেবল একটি প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবহন খাত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘নীরব এলাকা’ বাস্তবায়নের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন কয়েকটি অঞ্চল নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণার আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাকেও এ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে ২ হাজার ৫০০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় এক কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় এবং প্রায় সাত হাজার হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন বিধিমালার আওতায় ট্রাফিক সার্জেন্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেওয়ায় আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানানো হয়।
কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে ‘৬৪টি জেলার শহরে শব্দ দূষণের মাত্রা পরিমাপের সমীক্ষা প্রতিবেদন’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।