হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ডাকসু নির্বাচন: প্রচার শেষ, কাল ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিন ছিল গতকাল। এদিন প্রার্থীরা ছুটে বেড়িয়েছেন ক্যাম্পাসজুড়ে, করেছেন জনসংযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এলাকায়। ছবি: জাহিদুল ইসলাম

পাঁচ বছর পর ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল প্রচারের শেষ দিন। এখন ভোট উৎসবের পালা। আগামীকাল ব্যালটের মাধ্যমে ডাকসু ও হল সংসদে পছন্দের প্রার্থী বাছাই করবেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

দখলমুক্ত পরিবেশে প্রথম ডাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আট কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ১০০টি বাড়িয়ে ৮১০টি করেছে নির্বাচন কমিশন। গত শনিবার রাতে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এবার ডাকসুতে মোট প্রার্থী ৪৭০ জন। তাঁদের মধ্য থেকে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২৮ জনকে বেছে নেবেন ভোটাররা। ভোটার টানার লক্ষ্যে প্রার্থীরা টানা ১২ দিনের প্রচার কার্যক্রম শেষ করেছেন।

গতকাল শেষ দিনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল, শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য, বাম-সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদসহ ১০টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। হল পাড়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, টিএসসি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, মধুর ক্যানটিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কলাভবন এলাকা, মল চত্বর, বটতলাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সমানতালে।

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারের অভিযোগ, ডাকসু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি আমরা। প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন ভোট দিতে পারবেন কি না এমন শঙ্কাও শিক্ষার্থীরা আমাদের জানিয়েছেন। একটা গোষ্ঠীকে জেতানোর জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করছে কি না এমন শঙ্কাও আছে।’

বাকের অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির লোকেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে চাপ দিচ্ছে, যাতে শিবির বা ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলকে ভোট দেয়। এমন কাজ করত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও ছাত্রলীগ। আপনারা ছাত্রলীগের মতো হয়েন না, ঢাবি শিক্ষার্থীরা এটা মেনে নিবে না।’

একই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে জামায়াতের লোক ভোট চাচ্ছে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের পক্ষে। লেগুনা ভাড়া করে নাজিরা বাজারে নিয়ে যাচ্ছে ও খেয়ে আসছে। যাঁরা ছাত্রত্ব শেষ হয়ে এমফিল করছেন, তাঁদের নাজিরা বাজারই ভরসা।

হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসে এসে হুইলচেয়ারে বসেই ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। গতকাল মধুর ক্যানটিনের সামনে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ডাকসু নির্বাচনের প্রচার যখন তুঙ্গে, তখন শরীরে অস্ত্রোপচারের কারণে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হয়েছে প্রতিরোধ পর্ষদের জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসুকে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গতকাল হুইলচেয়ারে বসে ক্যাম্পাসে এসেছেন তিনি। এসেই সংবাদ সম্মেলনে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অনাবাসিক যাঁরা, তাঁরা প্লিজ ভোট দিতে আসুন। ভোট দিতে আসলে একটা ইকুয়েশন বদলে যাবে। এখানে যত সমীকরণ হচ্ছে, তা দাঁড়াবে না। স্বাধীনতাবিরোধীরা একটি পদেও জিতে আসতে পারবে না।’

গতকাল প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, কোনো বড় নেতা এলাকা থেকে ফোন দিয়ে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের পক্ষে ভোট চাওয়া, এটা ফ্যাসিবাদী কায়দা। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম দেখে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যতগুলো অভিযোগ করেছি, উনারা সুষ্ঠু তদন্ত করেননি, আমাদেরকে ফিডব্যাকও জানাননি। প্রচারণার শুরুর দিনে আমাদের এক নারী প্রার্থীর ছবি বিকৃত করা হয়েছিল, সেটির কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ছাড়া ক্রমাগত সাইবার বুলিং করেছে, লিখিত অভিযোগ দিলে সেটারও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গতকাল শপথ পাঠের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ। দুপুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই কর্মসূচি। শপথ বাক্যে তাঁরা ঘোষণা দেন—অতীতের গণরুম প্রথা, গেস্টরুম নির্যাতন, জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর যে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা আর কখনো ক্যাম্পাসে ফিরতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ঢাবি ক্যাম্পাসকে নারীবান্ধব, সুরক্ষিত ও সমঅধিকারভিত্তিক এলাকায় পরিণত করা হবে। নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্ষমতায়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। শেষ প্রতিজ্ঞায় বলা হয়, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করবেন তাঁরা।

সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা

ভোটের দ্বারপ্রান্তে এসে এখন নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা। এবার ডাকসুতে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাঁচটি হলেই আছেন ১৮ হাজার ৯৫৯ জন। অর্থাৎ, মোট ভোটারের ৪৭ দশমিক ৫৪ শতাংশই নারী। বাকি ১৩টি ছাত্র হলে রয়েছেন মোট ২০ হাজার ৯১৬ জন ভোটার। ছাত্রদের হলগুলোর মধ্যে অমর একুশে হলে ১ হাজার ৩০০, বিজয় একাত্তর হলে ২ হাজার ৪৩, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লা হলে ২ হাজার ৫, ফজলুল হক মুসলিম হলে ১ হাজার ৭৭২, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ১ হাজার ৪০৭, জগন্নাথ হলে ২ হাজার ২২৫, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১ হাজার ৬০৯, কবি জসীমউদ্‌দীন হলে ১ হাজার ২৯৮, জিয়াউর রহমান হলে ১ হাজার ৭৫৩, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৬৬৫, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ১ হাজার ৯৬৩, স্যার এ এফ রহমান হলে ১ হাজার ৩৮১ ও সূর্যসেন হলে ১ হাজার ৪৯৫ জন ভোটার রয়েছেন। ছাত্রীদের হলগুলোর মধ্যে রোকেয়া হলে ৫ হাজার ৬৬৫, শামসুন নাহার হলে ৪ হাজার ৯৬, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ২ হাজার ১১০, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪ হাজার ৪৪৩ ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলে ২ হাজার ৬৪৫ জন নারী ভোটার রয়েছেন।

নারী ভোটার টানতে ছাত্রীদের হলগুলোতে প্রজেকশন মিটিং করেছে প্যানেলগুলো। আবার জগন্নাথ হলে ভোট পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল, নারী ভোটার টানাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে তাদের জন্য।

জগন্নাথ হলের একটি সূত্র বলছে, সেখানকার ভোট বাম ও ছাত্রদল-সমর্থিতরাই বেশি পাবেন বলে ধারণা তাদের। অন্যদিকে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা মনে করেন, মেয়েদের বিষয়গুলো তিনি খুব কাছ থেকে যেহেতু দেখছেন, সে ক্ষেত্রে তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন।

ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট, প্রতিরোধ পর্ষদও বলছে, ‘নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরাই কাজ করতে পারব।’ বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যেসব ভোটার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেননি, তাঁরাই হবেন টার্ম কার্ড নির্বাচনে। সুইং ভোটারের ভোটে নির্বাচিত হবেন ভিপি-জিএস। এ ক্ষেত্রে কোন সমীকরণ হলে তিনি এগিয়ে থাকবেন। কেউ কেউ সমীকরণ মেলাতে সব হলের পাশাপাশি রোকেয়া হল, সুফিয়া কামাল হল, জিয়াউর রহমান হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হলকে বেশি প্রাধান্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ এসব হলে ভোটারের সংখ্যা বেশি।

বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে খুন হন মুছাব্বির, পাঠানো হয় ১৫ লাখ টাকা

টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

মুছাব্বির হত্যায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আপন ভাই, আরেক ভাই পলাতক: ডিবি

সমিতির নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, হোতা গ্রেপ্তার

বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়ানো দরকার

রাসিকের সাবেক মেয়র লিটন ও পরিবারের ৪১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৯

৯ ঘণ্টা পর প্রক্টর অফিস থেকে ছাড়া পেলেন চবির সেই শিক্ষক

এলপিজির সংকট কাটছে না শিগগির