পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর অবশিষ্টাংশ ও অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন থেকে ৩০ মে রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য ডাম্পিং করা হয়েছে, যা পূর্বনির্ধারিত ৩৩ হাজার ৯৪২ টনের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
আজ রোববার নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রথম দিনে ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিনে ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিনে ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তিন দিনে মোট অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬ টনে।’
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিএসসিসির নিজস্ব জনবল ও পিসিএসপি-এর কর্মীসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। বর্জ্য পরিবহনের জন্য ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ডিএসসিসির নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, ঈদের আগে গণবিজ্ঞপ্তি, টেলিভিশন প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়ার্ডভিত্তিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। ফলে অনেক নাগরিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বর্জ্য সংরক্ষণ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করেছেন।
ব্রিফিংয়ে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জানানো হয়, ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী ইজারাদাররা দায়িত্ব পালন না করায় সিটি করপোরেশনকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য অপসারণ করতে হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, কোরবানির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হলেও তদারকি দল এখনো মাঠে সক্রিয়। কোথাও বর্জ্য জমে থাকতে দেখা গেলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০১৭০৯৯০০৮৮৮ অথবা ০২২২৩৩৮৬০১৪-এ জানালে এক ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করা হবে।
তবে টানা তিন দিন কোরবানি, যত্রতত্র চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে কিছু সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং নাগরিক সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
এ সময় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।