হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বেতন চাইলে গৃহকর্মীদের পিস্তল দেখান সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে গ্রেপ্তার

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শামসুদ্দোহা খন্দকারের কাছে বাড়ির চার নারী গৃহকর্মী গতকাল শনিবার তাঁদের বকেয়া বেতন চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে তাঁদের হত্যার হুমকি দেন। মদ পান করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আতঙ্কে গৃহকর্মীদের একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। রাতেই ঘটনাস্থল ঢাকার নবাবগঞ্জের পানালিয়া ওয়ান্ডেরালা গ্রিন পার্কের বাড়িতে যায় পুলিশ।

তবে পুলিশ দেখে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও উত্তেজিত হয়ে যান। দরজা আটকে ভেতরে থাকেন, পুলিশও সারা রাত অপেক্ষা করে তাঁর বাড়ির সামনে। টানা ১২ ঘণ্টা পুলিশের অপেক্ষার পর আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে চেক জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

নবাবগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শামসুদ্দোহা মদ্যপ অবস্থায় বাসার কাজের লোকজনকে হুমকি দেন। রাত ১১টার দিকে এক নারী গৃহকর্মী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তাঁকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিনি পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেও গৃহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার চালিয়ে যান। এ সময় শামসুদ্দোহার অস্বাভাবিক আচরণে পুলিশ সদস্যরা অনেকটা বিব্রত হন। পরে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ রাতভর তাঁর বাসার সামনে অবস্থান নেয়।

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহাকে আটক করতে বাড়ির বাইরে পুলিশের গাড়ি অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, শামসুদ্দোহা বাসার চার নারী গৃহকর্মীকে বেতন না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন এবং লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে তাঁদের গুলি করার হুমকি দেন। পুলিশদের দেখে তিনি নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন। দীর্ঘ সময় দরজা খোলার অপেক্ষায় থাকার পর রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঘুম থেকে ওঠেন। ওসির অনুরোধে সাড়ে ১০টার দিকে বের হয়ে গেটে এসে পুলিশের গাড়িতে ওঠেন। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও জব্দ করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর শামসুদ্দোহাকে প্রথমে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানান, শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির ঘটনায় দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন শামসুদ্দোহা খন্দকার। ২০১১ সালে অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন এবং পরে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তবে দায়িত্বকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরে যান তিনি।

২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শামসুদ্দোহা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধানে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবেই প্রায় ৪১ কোটি টাকার অবৈধ আয় শনাক্ত হয়। শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দুদকের মামলা এখনো বিচারাধীন।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, চেক জালিয়াতির দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা থাকলেও সেসব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।

পুরান ঢাকায় জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীর ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধার

মসজিদভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্পের কর্মকর্তা রাশেদুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে পাঁচ মাসে মিলল ৫ লাশ, শনাক্ত হয়নি, গ্রেপ্তারও নেই

ডাকসুর কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ ও ‘ইউরেনিয়াম’ স্লোগান নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম, ফোনে আবার হত্যার হুমকি

রাজধানীর গুলশানে ঘর থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নীতিসহায়তা না পেলে ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ঝুঁকিতে পড়বে

কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধারে মাটি লুট, গ্রেপ্তার ১

মৌখিক পরীক্ষার দেড় মাস পরও ফল প্রকাশ হয়নি, হতাশায় পরীক্ষার্থীরা