রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শ্বাসকষ্টে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের অভাব ও অপর্যাপ্ত পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর সেখানে চরম দমবন্ধকর বা ‘সাফোকেটিভ’ পরিবেশ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বা আজ বুধবার ভোরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ‘পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড নম্বর ২’-এ নবজাতকদের রাখা হয়েছিল। সেখানে অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে নবজাতকদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা মারা যায়।
আজ দুপুরে হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মহাপরিচালক বলেন, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডের যে অংশে নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে অত্যন্ত দমবন্ধ করা পরিবেশ পাওয়া গেছে। ভোরে ওই কক্ষে এসি বিকল হওয়া বা অন্য কোনো ত্রুটির কারণে বাতাস চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এসিটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যে, সেটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা সচল থাকে না।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অবহেলা ও কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখতে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে রোগীদের স্বজনেরাও ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাততলাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোর ছোট ছোট অসংখ্য কক্ষে বিভক্ত। পর্যাপ্ত জানালা বা ভেন্টিলেশন না থাকায় হাসপাতালের ভেতর সব সময় একটি ভ্যাপসা গন্ধ ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতি বিরাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুর থেকে আসা রোগীর স্বজন মশিউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশ নেই। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ তুলনামূলক কম খরচের আশায় এখানে আসে। কিন্তু পুরো হাসপাতালটাই যেন একটি বদ্ধ কারাগার। বাইরে থেকে আলো-বাতাস ঢোকার কোনো পথ নেই। এই দমবন্ধ করা পরিবেশের কারণেই আজ এতগুলো ফুটফুটে শিশুর প্রাণ গেল।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই অবহেলার পেছনে মূল দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, আদ-দ্বীন হাসপাতাল একটি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হলেন শেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে।