এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির জামিনের এই আদেশ দেন।
তোফায়েল আহমেদ রায়হান ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসাইন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. সামিউল ইসলাম গত বছরের ৩০ নভেম্বর এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীকে তোফায়েল কয়েকবার ধর্ষণ করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আর এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১ আগস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে আসামি তোফায়েল আহমেদ রায়হানের সঙ্গে বাদীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাঁরা ফেসবুক মেসেঞ্জারে নিজেরা কথা বলতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে আসামি তোফায়েল ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমে তরুণী রাজি ছিলেন না। তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করান তোফায়েল। পরে ৩১ জানুয়ারি বাদীকে স্ত্রীর পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রায়হান। পরে তাঁকে কয়েকবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর থেকে ওই তরুণী বিয়ের কথা বললে রায়হান বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মামলার ৬ মাস আগে হয়েছে বিধায় কোনো আলামত জব্দ করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী নিজেও কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেননি।
ডিএনএ রিপোর্টে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক তদন্তে প্রথম দিনের ঘটনা, হোটেল বুকিং কপি, ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় আসামি তোফায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
উল্লেখ্য, মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েলকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে এই জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।