রাজধানীর উত্তরখানে বৃদ্ধা হাজেরা বেগম (৮০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরব আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে গত বুধবার কুমিল্লার বুড়িচং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সিগারেট ও জুতার সূত্র ধরে তাঁকে শনাক্ত করে পুলিশ। তিনি হাজেরার বাড়ির একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। পুলিশের দাবি, বাড়িভাড়ার বকেয়া টাকা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাজেরাকে খুন করেন আরব আলী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উত্তরখানের মাস্টারপাড়ার ওজাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির তালাবদ্ধ ঘর থেকে হাজেরা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন।
ডিসি মোর্শেদ আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সিগারেটের অংশবিশেষ, আসামির ব্যবহৃত জুতা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে আরব আলীর জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে কুমিল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। ১১ নম্বর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আরব আলী। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. তরিকুর রহমান, বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম, উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. বদরুল হাসান, দক্ষিণখান জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রাকিবা ইয়াসমিন প্রমুখ।