রাজধানীর মতিঝিল, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতাসহ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ১৫টি অভিযানে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে ওঠানো এক লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আজ মঙ্গলবার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। র্যাব বলছে, রমজান এবং ঈদকে টার্গেট করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতে কেনাকাটা করতে বের হওয়া মানুষদের টার্গেট করে তারা তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘উৎসব প্রিয় রাজধানীবাসী রাতেই ঈদের কেনাকাটা করে থাকেন। ব্যবসায়ীরাও এই সময়ে বাজারে তাদের পণ্য সরবরাহে কাজ করেন। এই সুযোগে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সবজি ও ফলের দোকান, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান, লেগুনা স্ট্যান্ড এবং মালবাহী গাড়ি থেকে অবৈধভাবে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হলে তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হতো।’
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সবজি ও ফলের দোকান, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান, লেগুনা স্ট্যান্ড এবং মালবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে একটি চক্র। ওয়ারী থানার কাপ্তান বাজারে চাঁদাবাজি শুরু হয় মূলত রাত ১২টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত। মুরগি বহনকারী কোনো গাড়ি এই বাজারে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সাইজ ও মুরগির পরিমাণ দেখে চাঁদা আদায় করা হতো। প্রতিরাতে এখান থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। রমনা থানার শান্তিনগর এলাকার ফুটপাত থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই শিফটে ৪ থেকে ৫ জনের একটি গ্রুপ চাঁদা আদায় করত। প্রতিদিন প্রায় লাখের বেশি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চাঁদার টাকা না দিলে দোকানদারদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়াসহ মারপিট করা হয়। একইভাবে লেগুনা স্ট্যান্ডে হুমকি দিয়ে চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়।’