চট্টগ্রাম থেকে কারখানার মালামালের কনটেইনারবাহী লরি নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন মিজানুর রহমান বাবুল। সঙ্গে সহকারী তাঁরই ছেলে তন্ময় হোসেন মেহেদী। দুপুর ১২টার দিকে লরি থেকে কারখানায় কনটেইনার নামানো শুরু হয়। বেলা ২টার দিকে খালি লরিটি পাকা রাস্তায় নেওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালু করে চালিয়ে নেন বাবা মিজানুর রহমান। তিনি জানতেন না নির্ঘুম রাত কাটানো ছেলে লরির নিচে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুমের মধ্যেই লরির চাকায় পিষে যান তন্ময়। লরির নিচ থেকে সামান্য চিৎকার কানে আসতেই চমক ভাঙে বাবার। কিন্তু ততক্ষণে ছেলে আর নেই!
আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার লোহাগাছ এলাকায় ভিকার ইলেকট্রনিকস নামের কারখানা প্রাঙ্গণে।
মো. মিজানুর রহমান বাবুল চাঁদপুর সদর উপজেলার হামান কদরী গ্রামের বাসিন্দা। ছেলের তন্ময় হোসেন মেহেদীর বয়স ২১ বছর।
মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, ‘রোববার রাতে চট্টগ্রাম থেকে একটি কোম্পানির কনটেইনার নিয়ে ছেলেসহ রওনা হই। ভোররাতে এসে শ্রীপুরের লোহাগাছ এলাকায় পৌঁছানোর পর সকাল থেকে কনটেইনার নামানো শুরু হয়। বেলা ২টার দিকে লরি থেকে কনটেইনার নামানো শেষ হয়। এরপর ছেলেকে কারখানা থেকে গেট পাস আনতে বলি। এরপর আমিও একটু ঘুমিয়ে পড়ি। পাস আনতে গিয়ে ছেলেও লরির নিচে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি ঘুম থেকে উঠে গাড়িটি কারখানার মূল ফটকের বাইরে পাকা সড়কে নেওয়ার জন্য জন্য টান দিই। টান দেওয়ার পরপরই গাড়ির নিচ থেকে একটি চিৎকারের শব্দ আসে। আমি গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার ঘুমন্ত ছেলে চাকার নিচে পড়ে পিষে গেছে। ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়।’
নিজের চালানো গাড়ির নিচে ছেলের মৃত্যুতে পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন বাবুল। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ছয় মাস যাবৎ আমার সঙ্গে থেকে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আর আমি আমার ছেলেকে নিজ হাতে খুন করলাম! আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল!’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম আজকের পত্রিকাকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে, বাবার আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’