‘ক্যাসিনো ব্রাদার্স’ নামে খ্যাত আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তাঁর ভাই যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াকে অর্থ পাচারের আরেক মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ-৮-এর বিচারক নুরে আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রত্যেককে ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। অপর দিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এনু-রুপনের আট সহযোগীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি মো. সেলিম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে করা এক মামলায় এনামুল হক এনু ও তাঁর ভাই রুপন ভূঁইয়াকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মাসুদ পারভেজ। এর আগে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়ারী থানায় করা অর্থ পাচারের প্রথম মামলায় এনু-রুপনসহ ১১ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। একই সঙ্গে তাঁদের চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
আজ মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে এনু-রুপনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আড়াল করার অভিযোগে রাজধানীর ওয়ারী থানায় ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি র্যাব-৩-এর নায়েব সুবেদার রমজান আলী মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০২১ সালের ৮ আগস্ট এনু-রুপন ও তাঁদের ৮ সহযোগীকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার আস্তানা থেকে ৫ কোটি টাকা ও আট কেজি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে র্যাব। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বাড়ির ভল্টে পাওয়া যায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, এক কেজি স্বর্ণ, বিদেশি মুদ্রা ও পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর। মানি লন্ডারিং মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি তাঁদের ১২১টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পায়। দুই ভাইয়ের কর্মচারী কালামের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ২ কোটি টাকা।
২০২০ সালের ২০ আগস্ট রাজধানীর বংশাল এলাকায় এনু-রুপনের সহযোগী আবুল কালাম আজাদ ও হারুন-অর-রশিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, সাড়ে আট কেজি স্বর্ণ ও ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব। এরপর তাঁদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা হয়।
এসব মামলার অভিযোগে বলা হয়, এনু ও রুপন দীর্ঘদিন ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তাঁরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিভিন্নভাবে পাচার করেন।