‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনে অনেক বড় বড় দেশের নাবিকেরা সেখানে আটকা আছেন। তাঁরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। আমাদের বাংলাদেশ খুব ছোট দেশ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের কূটনীতিকেরা অনেক পরিশ্রম ও চেষ্টা করে আমাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এনেছেন। এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’
আজ বুধবার দুপুরে রুশ সেনা অভিযানের মুখে ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাহাজের ক্যাপ্টেন জি এম নূরে আলম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকলেই আনন্দিত, সুস্থভাবে দেশ ফিরতে পেরেছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ও পোল্যান্ড, রোমানিয়ায়, অস্ট্রিয়ার দূতাবাস কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা এতোদ্রুত দেশে ফিরতে পারব কিনা তা ছিল আমাদের জন্য অকল্পনীয়। একই সঙ্গে অত্যন্ত গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি আমাদের কলিগ ও থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মৃত্যুতে। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তাঁর মরদেহ হিমঘরে রেখে এসেছি।’
ইউক্রেনে বাংলাদেশি জাহাজে হামলার ঘটনায় ক্যাপ্টেন জি এম নূরে আলম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ডিউটিতে ছিলাম। বিকেলে যখন আ্যটাক হয় তখন জাহাজের ব্রিজে আগুন লেগে গিয়েছিল। এরপর আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।’
জাহাজের ক্যাপ্টেন বলেন, ‘দেশবাসী আমাদের জন্য অনেক দোয়া করেছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয় আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরামর্শ ও সাহস দিয়েছেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও ফোন করে আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। আমরা যেখানে দেখেছি প্রায় ৬০ কিলোমিটার হেঁটে হেঁটে রিফিউজিরা সীমান্ত অতিক্রম করছে। কিন্তু আমাদের হেঁটে পার হতে হয়নি। যেদিন থেকে যুদ্ধ শুরু হয় সেদিন সকাল থেকেই চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।’