অনিবন্ধিত সুদের কারবারিদের বিষয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দেওয়ার জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অভিযোগ বক্স স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংককে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সারা দেশে অনিবন্ধিত সুদের কারবারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির তালিকা দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ওই তালিকা দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাও জানাতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেন। এর আগে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র ঋণের কারবার নিয়ে তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তদন্তের সময় অননুমোদিত ক্ষুদ্র ঋণ কারবারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। সেই সঙ্গে অনিবন্ধিত সুদের কারবারিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে ১৯টি টিম গঠন করা হয়েছে।
গত বছরের ২৮ আগস্ট ‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে ৭ সেপ্টেম্বর রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রিটে সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সেই সঙ্গে মহাজনদের উচ্চহারে অনানুষ্ঠানিক ঋণ প্রথা নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয়।