হোম > সারা দেশ > ঢাকা

হকারদের দৌরাত্ম্যে বিব্রত স্মার্ট কার্ড গ্রহণকারীরা! 

মো. রিয়াদ হোসাইন, কালীগঞ্জ, গাজীপুর

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করতে গিয়ে হকারদের দৌরাত্ম্যে বিব্রত জনসাধারণ। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা নির্বাচন অফিসের যোগসাজশেই হচ্ছে এমনটা। 

কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিফা খন্দকার (২৬) নির্বাচন অফিস কর্তৃক পূর্বঘোষিত দিনে পৌরসভায় যান স্মার্ট কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) তুলতে। পৌরসভায় প্রবেশ পথে গিয়েই দেখেন মানুষের জটলা। গেটের বাইরে এবং ভেতরে চেয়ার পেতে স্মার্ট ফোন নিয়ে বসে আছেন কিছু যুবক। পুরোনো এনআইডি কার্ড নিয়ে নির্বাচন অফিসের লোকজনের কাছে গেলে তাঁরা বলেন, বক্স নম্বর নিয়ে আসেন। কোথায় পাব—এমন প্রশ্নে তাঁরা গেটে বসে থাকা যুবকদের কথা বলেন। 

শিফা তাঁর এনআইডি কার্ডের বক্স নম্বর আনতে ছাতা টাঙ্গিয়ে বসা লোকগুলোর কাছে গিয়ে ১০ টাকার বিনিময়ে এনআইডি কার্ডের বক্স নম্বর স্লিপ নেন। পরে সেই স্লিপ নিয়ে নির্দিষ্ট বুথে হাতের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের রেটিনা দিয়ে অন্য বুথ থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করেন। স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করার পরই শুরু হয় পৌরসভার ভেতরে থাকা লেমিনেটিং মেশিন ও কার্ড হোল্ডার, ক্লিপ ও ফিতা নিয়ে বসা হকারদের দৌরাত্ম্য। 

শিফা খন্দকার বলেন, ‘সকল নিয়মনীতি মেনে আমি যখন স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করলাম। তখন স্মার্ট কার্ড বিতরণ বুথের পাশে দাঁড়ানো একটি লোক আমার হাত থেকে স্মার্ট কার্ডটি টেনে নেয় এবং বলে ওখানে লেমিনেটিং হয়। পরে আমি তাঁকে দিয়ে দিলাম লেমিনেটিং করতে। পরে তিনি আমার স্মার্ট কার্ড কালার ফটোকপি শেষে লেমিনেটিং করে একটা কার্ড হোল্ডারে ক্লিপসহ লাগিয়ে আমার হাতে দেন এবং ৭০ টাকা দাবি করেন।’ 

শিফা আরও বলেন, ‘শুরুতে ওই লোকটি যখন আমার স্মার্ট কার্ডটি টেনে নেয় আমি মনে করেছিলাম তাঁরা নির্বাচন অফিসের লোকজন। কিন্তু যখন টাকা দাবি করল তখন বুঝতে পারলাম ওরা আসলে হকার। এ সময় আমার কাছে রিকশা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা ছিল না। পরে আমি আমার স্বামীকে ফোন দিয়ে এনে সেই টাকা দিয়ে চলে আসি।’ 

স্মার্ট কার্ড নিতে আসা সুজন মিয়া জানান, তাঁর পুরোনো এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। কিন্তু স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করার পর বুথে গিয়ে বিষয়টি বললে ৩৭০ টাকা দিতে বলে। পরে তিনি ওই পরিমাণ টাকা দিয়ে স্মার্ট গ্রহণ করেন। 

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী জানান, এমনিতেই ছোট পৌর ভবন। তার ওপর স্মার্ট কার্ড নিতে আসা লোকজনে পুরোপুরি ঠাসা থাকে। তার মধ্যে অসংখ্য হকারের আনাগোনা। কেউ লেমিনেটিং মেশিন নিয়ে বসা, কেউ স্ক্যানার ও ফটোকপি মেশিন নিয়ে বসা, কেউ আবার কার্ড হোল্ডার, ক্লিপ-ফিতা নিয়ে বসা। আমরা তাঁদের প্রতিদিনই পৌরসভার বাইরে যেতে বলি। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা আমলে নেয় না। 

স্মার্ট প্রদানকারী দলের টেকনিক্যাল সাপোর্টার ও টিম লিডার মো. শিমুল মিয়া বলেন, ‘স্মার্ট কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে কালীগঞ্জ পৌরসভার ভেতরে অসংখ্য হকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমরা তাদের কিছু করতে পারি না। কারণ আমরা গাজীপুর থেকে কার্ড বিতরণ করতে পৌরসভায় এসেছি। স্থানীয়রা সহযোগী না করলে আমাদের কিছু করার নেই।’ 

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারিজা নূর বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। তবে এমনটা হওয়ার কথা নয় এবং হওয়া উচিতও নয়। যেহেতু আমি জানলাম। পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ 

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এস. এম রবীন হোসেন বলেন, ‘পৌরসভার ভেতরে হকারদের আনাগোনায় স্মার্ট কার্ড গ্রহণকারীরা মনে করে ওরা নির্বাচন অফিসের লোকজন। এতে স্মার্ট কার্ড গ্রহণকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমি কয়েকবার লোকজন দিয়ে হকারদের বাইরে বের করে দিয়েছি এবং তাদের ডেকে পৌরসভার ভবনের বাইরে বসতে বলেছি। যদি বাইরে তাদের কাছে গিয়ে কাজ করায় তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা না।’ 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ১৭ মে থেকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৩৬ হাজার ৬৩৩ জনের মাঝে স্মার্ট কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৪ পর্যন্ত কয়েকটি বুথে এ স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। চলবে আগামী ৬ জুন পর্যন্ত।

সংকট কাটছে না শিগগির

নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বিস্ফোরণে ৭ জন দগ্ধ

দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

নিকুঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র

হাদি হত্যা: চার্জশিটে আপত্তি থাকলে বাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

গুলিস্তানে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২: গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোসাব্বির হত্যায় শুটার জিনাতসহ গ্রেপ্তার ৩

এবার মিরপুর রোডে তিতাসের ভালভ ফেটেছে, ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

মোসাব্বির হত্যা: খুনিদের ছবি স্পষ্ট পরিচয় অজানা