‘কি, টাকা লাগবে?’
‘না টাকা নয়, একটু ঠান্ডা পানি দেন স্যার।’
ঠিক এভাবেই একটু ঠান্ডা পানির জন্য আকুতি ছিল এক অবুঝ পথশিশু হামিদুলের। প্রখর রোদে সামান্য অর্থ আর কিছু খাবারের খোঁজে শিমুলিয়া ঘাটে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের পিছে পিছে ঘুরছিল শিশুটি। শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্ম থেকেই সে অনাথ। বুঝে ওঠার মতো বয়স হতে না হতেই হারিয়েছে পারিবারিক আশ্রয়, বঞ্চিত হয়েছে বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে।
শৈশবের বেড়ে ওঠা শুরু হয়েছে ফেরিতেই, আর শিমুলিয়া ঘাট এলাকার ফেরিগুলোর প্রতিটি শ্রমিক ও চালকই যেন তার পরিবারের একেকটি সদস্য। তাই তো দিন আর রাত কাটে তার শিমুলিয়া ঘাটের এক ফেরি থেকে আরেক ফেরিতে ঘুরে ঘুরে। পেটের ক্ষুধা, শখ আর শৈশবের আবদার পূরণের মতো কোনো আপনজন নেই তার। তিন বেলার খাবার আর নিজের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর মতো অর্থ জোগাতে হয় ঘাটে আসা মানুষদের কাছে হাত পেতে।
অশ্রুসিক্ত চোখে শিশুটি বলে, ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া শিখে এক দিন বড় মানুষ হবে সে, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে ইচ্ছেও পূরণ দুষ্কর।
শিশুটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে ঘাট এলাকার বেশ কয়েকটি ফেরির চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয় বছর আগে ফেরি ‘কর্ণফুলী’তে পাওয়া যায় তাকে। এরপর থেকে ফেরির এক শ্রমিক কোলে পিঠে করে আগলে রেখে বড় করে তোলে তাকে। বেশ কয়েক বছর হলো অসুস্থতার কারণে সে শ্রমিক মারা যান। ফলে শিশুটিকে দেখার মতো আর কেউ নেই। তখন থেকে একেক সময় একেক ফেরিতে কাটছে তার দিন।
ঘাট এলাকার ফেরি শ্রমিক ও চালকদের দাবি, যদি সমাজের কোনো বিত্তবান ব্যক্তি শিশুটিকে আপন করে নিয়ে লেখাপড়া শেখায়; তাকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলত, তবে কে বলতে পারে হয়তো এই শিশুটিই এক সময় দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে।
শিশুটির বিষয়ে শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘শিশুটির ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে গেলে, শিশুটির লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সব সময় শিশুটির দেখাশোনার বিষয়ে কী করা যায়, এ ব্যাপারে পর্যালোচনা
করা হবে।’